মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬
মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬

জ্বালানি তেলের ভোগান্তি, সমাধান মিলবে ইলেকট্রিক বাইকে

মোকাম্মেল হোসেন ইভান

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
জ্বালানি তেলের ভোগান্তি, সমাধান মিলবে ইলেকট্রিক বাইকে

ভোরবেলার শান্ত শহর হোক কিংবা ব্যস্ত দুপুর—পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে এখন মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি এক নিয়মিত দৃশ্য। বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের অস্থিরতা আর দেশে জ্বালানি আমদানির সংকটের আশঙ্কায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের জন্য সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণা সইতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধির শঙ্কা তো আছেই। এই যখন বাস্তবতা, তখন বাংলাদেশের পরিবহন খাতে এক নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছে ইলেকট্রিক টুহুইলার (স্কুটার)

একজন সাধারণ বাইকারকে মাসে তেলের পেছনে কয়েক হাজার টাকা গুনতে হয়। এর ওপর যুক্ত হয় ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন, মেকানিক্যাল মেইনটেন্যান্স এবং তেলের গুণমান নিয়ে দুশ্চিন্তা। ঠিক এখানেই ইলেকট্রিক স্কুটার হয়ে উঠেছে গেমচেঞ্জার। কোনো জ্বালানি তেলের প্রয়োজন নেই, নেই গিয়ার বা ক্লাচের বাড়তি ঝক্কি। শুধু চার্জ দিয়ে নিলেই দিনের পর দিন নির্বিঘ্নে চলা সম্ভব। যেখানে এক লিটার পেট্রোলে ৪০৫০ কিলোমিটার পথ যাওয়া যায়, সেখানে মাত্র কয়েক টাকার বিদ্যুৎ খরচ করে একটি ইস্কুটার প্রায় ৮০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে।

দেশের রাস্তায় এখন আর শুধু বিদেশি ব্র্যান্ড নয়, বরং বেশ কিছু দেশি ও আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানি তাদের উন্নত প্রযুক্তির ইস্কুটার নিয়ে এসেছে। বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ফিচারের ওপর ভিত্তি করে দামের ভিন্নতা থাকলেও মোটামুটি একটি নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া যায়:

হুয়াইহাই ইভি (Huaihai EV): আন্তর্জাতিক এই ব্র্যান্ডটি বাংলাদেশে NAMSS Motors Limited-এর মাধ্যমে তাদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। আধুনিক গ্রাফিন ও লিথিয়াম ব্যাটারি প্রযুক্তির সমন্বয়ে তাদের স্কুটারগুলো বাজারে ৯৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতা এবং শক্তিশালী মোটরের কারণে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি এখন অন্যতম পছন্দের নাম।

ইয়েদিয়া (Yadea): বিভিন্ন সিরিজের মাধ্যমে ইলেকট্রিক বাহনের বাজারে রানার অটোমোবাইল ইয়েদিয়া ব্রান্ডের মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। তাদের মডেলগুলোর দাম ৮৬ হাজার থেকে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে।

আকিজ মোটরস (Akij Motors): দেশীয় বাজারে অনেক আগে থেকেই তারা সুপরিচিত। তাদের বিভিন্ন মডেলের স্কুটার ও বাইক ৮০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে মিলছে।

গ্রিন টাইগার (Green Tiger): টেকসই বডি এবং পারফরম্যান্সের জন্য জনপ্রিয় এই ব্র্যান্ডের ইবাইকগুলো সাধারণত ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বাজেটে পাওয়া যায়।

ওয়ালটন (Walton): তাদের তাকিওনসিরিজের মাধ্যমে ইলেকট্রিক বাহনের বাজারে ওয়ালটন বেশ সাড়া ফেলেছে। সাধারণ গ্রাহকদের নাগালের মধ্যে থাকতে তাদের মডেলগুলোর দাম ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে।

ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার বড় হলেও নিবন্ধনের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায় রয়ে গেছে। বর্তমানে একটি পেট্রোলচালিত বাইকের সমান নিবন্ধন ফি (২ বছরে ১০,৬১৪ টাকা এবং ১০ বছরে ১৯,৮১৪ টাকা) ইলেকট্রিক যানের ক্ষেত্রেও কার্যকর।

এ বিষয়ে খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, যেহেতু এই বাহনগুলো পরিবেশবান্ধব এবং দেশের জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমায়, তাই এর নিবন্ধন ফি উল্লেখযোগ্য হারে কমানো প্রয়োজন। নিবন্ধন ব্যয় কমানো হলে সাধারণ মানুষ ইভেহিকেলের প্রতি আরও আগ্রহী হবে এবং এই খাতটি দ্রুত একটি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আসবে।

অনেকের মনেই ব্যাটারি বা স্পেয়ার পার্টস নিয়ে সংশয় থাকে। তবে বর্তমানে NAMSS Motors Limited-এর মতো ডিস্ট্রিবিউটররা ৪১টিরও বেশি জেলায় সার্ভিস নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। ফলে ব্যাটারি পরিবর্তন বা কারিগরি যেকোনো সমস্যায় গ্রাহকদের এখন আর বিপাকে পড়তে হয় না।

জ্বালানি তেলের অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বিপরীতে ইলেকট্রিক টুহুইলার এখন কেবল পরিবেশ রক্ষার মাধ্যম নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের উন্নত ও মানসম্মত যাতায়াতের একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হয়ে উঠছে। কম খরচ, সহজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধার কারণে দিন দিন বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা।

লেখক: পরিচালক, ন্যামস মোটরস এবং হুয়াইহাই ইভি বাংলাদেশএর বিজনেস অপারেশন প্রধান।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More