আপন চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. সিরাজুল ইসলামকে দীর্ঘ ১৯ বছর গ্রেফতার করে র্যাব। মঙ্গলবার (৪ জুলাই) ভোরে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সিরাজুল ইসলাম ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর সাহাভিকারী গ্রামের মৃত আহছান উল্লাহ’র ছেলে।
র্যাব জানায়, নিহত ভিকটিম মো. শহীদুল্লা ফেনী জেলার সোনাগাজী এলাকার বাসিন্দা। নিহতের সঙ্গে তার আপন চাচার পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ–বন্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে ২০০৪ সালের ২৮ মে নিহত ভিকটিম শহীদুল্লা ও তার আপন দুই ভাইয়ের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ভিকটিম ও তার অপর দুই ভাইকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মো. শহীদুল্লা।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে ফেনীর সোনাগাজী থানায় ৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামি মো. সিরাজুল ইসলাম আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। এরই মধ্যে আসামি মো. সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় আদালত ২০১২ সালে এ মামলায় আসামি মো. সিরাজুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১ বছরের কারাদন্ড প্রদান করেন।
এদিকে মো. সিরাজুল ইসলাম আইন শৃংখলা বাহিনীর নিকট হতে গ্রেফতার এড়াতে ছদ্মনামে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় অবস্থান করছে। অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব।
গ্রেফতারকৃত আসামি জিজ্ঞাসাবাদে বর্ণিত হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মর্মে স্বীকার করে। আইন শৃংখলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘ ১৯ বছর নারায়ণগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মনামে আত্মগোপন করে ছিল।
ফেনীস্থ র্যাব–৭ এর ফেনী কোম্পানী অধিনায়ক মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোনাগাজী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/আফ/দীপ্ত নিউজ