দীপ্ত নিউজ
ঢাকা বিভাগ

কালের সাক্ষী বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড়

আল আমিন
আল আমিন
কালের সাক্ষী বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড়
filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 2;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 37;

মানিকগঞ্জে যে কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে তার মধ্যে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি অন্যতম। প্রাসাদটি ঢাকা থেকে প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার উত্তর–পশ্চিম দিকে এবং মানিকগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পূর্ব দিকে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়ভাবে এই প্রাসাদটি বালিয়াটি জমিদারবাড়ি নামেই পরিচিত।

ঈদুল ফিতরের ছুটির শেষের দিকে জমিদার বাড়িতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। ভ্রমণ পিপাসুরা এখানে মাত্র ৩০ টাকা টিকিট কেটে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।

জানা গেছে, বালিয়াটি জমিদাররা উনিশ শতকের প্রথমার্ধ থেকে বিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক বছর ধরে অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, যা মানিকগঞ্জ জেলার পুরাকীর্তিকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছে। খ্রিস্টীয় উনিশ শতকের দিকে এই প্রাসাদ নির্মিত হয়। একটি নিম্নবিত্ত সাহা পরিবার থেকেই বালিয়াটি জমিদার বংশের উদ্ভব।

গোবিন্দ রায় সাহা, যিনি ছিলেন একজন ধনাঢ্য লবণ ব্যবসায়ী, তার পরবর্তী বংশধরেরা বালিয়াটি জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। গোবিন্দ রায়ের সময়েই এই বাড়ির নাম রাখা হয় গোলাবাড়ি, কারণ এখানে লবণের গোলাবাড়ি ছিল। সময়ের সাথে সাথেই, এখানকার মেলাগুলি, রথ উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ৫.৮৮ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। বাড়ির সম্মুখভাগে চারটি সুবিন্যস্ত সিংহদ্বার রয়েছে, যা বাড়ির প্রাচীন সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয়। জমিদার বাড়ির প্রধান ভবনগুলো চার–তলা বিশিষ্ট এবং সেগুলোর কারুকাজ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

বর্তমানে বালিয়াটি জমিদার বাড়ির একটি অংশ জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে জমিদারদের ব্যবহৃত বহু নিদর্শন রাখা হয়েছে, যেমন সিন্দুক, ঝাড়বাতি, শ্বেত পাথরের টেবিল, পালঙ্ক এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী।

বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে দেশি দর্শনার্থীরা ২০ টাকা টিকিট দিয়ে প্রবেশ করতে পারেন, এবং সার্কভুক্ত দর্শনার্থীদের জন্য ১০০ টাকা এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ২০০ টাকা টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে। রবিবার সম্পূর্ণ বন্ধ এবং সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকে।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ৮০ টাকায় পরিবারসহ এখানে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। কোনো প্রাইভেট বিনোদন কেন্দ্রে গেলে হাজার টাকার টিকিট কাটতে হত, কিন্তু এখানে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে মূল্যবান স্মৃতিচারণ সম্ভব হয়েছে।‘

সুমাইয়া নামের এক গৃহিণী বলেন, ‘এখানে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘুরে বেড়ানো যায়, তাছাড়া খাবার, খেলার মাঠ, মসজিদ সব কিছুই এখানে রয়েছে।‘

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ঈদের সময় এখানে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি নজরদারি রেখেছে।‘

এই সংবাদে মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ আছে।