ফেনীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আসামিদের মুক্তির সঙ্গে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি মহিলা কারাগার থেকে বের হয়েছে সাত বছরের শিশু মোবাশ্বেরা খানম রাথী।
জন্মের পর থেকেই মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকা শিশুটির বয়স এখন সাত বছর।
নুসরাত হত্যা মামলায় কারাবন্দি আসামিরা মঙ্গলবার দুপুর থেকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি পেতে শুরু করেন।
এ সময় মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, আব্দুর রহিম শরীফ এবং কামরুন্নাহার মনি মুক্তি পান। মায়ের সঙ্গে কারাগার থেকে বের হয় তার সাত বছরের মেয়ে মোবাশ্বেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের মামলায় গ্রেপ্তার হন কামরুন্নাহার মনি। সে সময় তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর কারাগারেই জন্ম নেয় তার মেয়ে মোবাশ্বেরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. জাকির হোসেন।
তিনি বলেন, মুক্তির যাবতীয় কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছলে তা যাচাই–বাছাই করা হয়। যাচাই–বাছাই শেষে তাদের পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে কামরুন্নাহার মনিকে গর্ভকালীন প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যেত। যাতে জন্ম নেওয়া শিশুটিকে কারাভোগ করতে না হয়।
তিনি আরও বলেন, শিশুটির দুগ্ধকালীন সময়েও তার মাকে জামিন দেওয়া যেত।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সূত্র: প্রতিদিনের বাংলাদেশ।