ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে শুধু শোক নয়, বরং প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে তেহরান। রবিবার (১ মার্চ) সকালে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হত্যাকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
খামেনির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরপরই দেয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তার জন্য গভীরভাবে শোকাহত। মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে আমাদের মহান নেতার এই শাহাদাৎ বরণ প্রমাণ করে যে, তার ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব তাদের জন্য কতটা আতঙ্কজনক ছিল।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হত্যাকাণ্ড কেবল একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং এটি ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। অপরাধীদের এই জাতি ছেড়ে দেবে না এবং যেকোনো দেশি–বিদেশি ষড়যন্ত্র নির্মূল করতে আইআরজিসি বদ্ধপরিকর।
আইআরজিসির ঘোষণার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান কয়েক ডজন ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং জর্ডানের আকাশসীমায় ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘লায়ন’স রোর’ নামে ইরানে ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করে। তেহরানে খামেনির সুরক্ষিত কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তিনি নিহত হন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ছিলেন আধুনিক ইরানের ক্ষমতার মূল স্তম্ভ। ১৯৮৯ সালে বিপ্লবের নায়ক আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর তিনি ইরানের সামরিক, বিচার ও গোয়েন্দা বিভাগসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে একক আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন।
খামেনির মৃত্যুতে ইরানে আগামী ৪০ দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং আজ থেকে টানা ৭ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।