জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা পৌনে একটার দিকে ৬ আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২।
কার কী সাজা হলো
রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত দুই আসামি হলেন সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৩ আসামি হলেন–সাবেক এসাই বিভূতিভূষণ রায়, রংপুর পুলিশের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ও সাবেক ইন্সপেক্টর রবিউল ইসলাম নয়ন। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
পলাতক আসামিদের মধ্যে মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে দশ বছর। রাফিল হাসান ও রাসেল রহমান তুফানকে ৫ এবং ৩ বছরের সস্ত্রম কারাদণ্ড। মনিরুজ্জামান পলাশকে তিন বছর, পলাতক পমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর, মাহফুজুর রহমান শামীম, ফজলে রাব্বি, আখতার হোসেন, সেজান আহমেদ আরিফ, ধনঞ্জয় কুমার টগর, বাবুল হোসেনকে ৩ বছর, ইমরান চৌধুরী আকাশ ও মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছর, মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডলকে ৩ বছর, নুর আলম মিয়াকে ৩ বছর, মাহবুবুর রহমানকে ৫ বছর, একেএম আমির হোসেনকে ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ডা. মো. সারওয়াত হোসেন চন্দনকে পাঁচ বছর, সাবেক উপাচার্য ডক্টর হাসিবুর রশিদকে ১০ বছর, মনিরুজ্জামান বেলটুকে ১০ বছর, আবু মারুফ হোসেনকে পাঁচ বছর, শাহানুর আলম পাটোয়ারীকে ৫ বছর, শরিফুল ইসলামকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আসামি আনোয়ার পারভেজ আপেলের হাজতবাসের সময়কে সাজা হিসেবে গণনা করে অন্য মামলা না থাকার শর্তে কারামুক্তি দিতে বলা হয়েছে।