বাগেরহাটের চিতলমারি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০টি বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে রাজিব শেখ (২০) নামের এক ব্যক্তি নিহত ও অন্তত ১২ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছে। নিহত রাজিব শেখ উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চিংগড়িয়া গ্রামের ফারুক শেখের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চিংগড়িয়া গ্রামে বিশ্বাস গ্রুপ ও শেখ গ্রুপের মধ্যে এ তাণ্ডব চলতে থাকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি।
স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা অত্যন্ত সংগঠিত ও সক্রিয় থাকায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায়। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ ও কালাম শেখ জানান, দীর্ঘদিন ধরে চিংগড়িয়া গ্রামের সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপ ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলম গ্রুপের মধ্যে জায়গা জমি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জেরে গত ২৮ জানুয়ারি চিংগড়িয়া গ্রামের লিচুতলা এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপের নিজাম উদ্দিন মারা যান। ওই ঘটনার জেরে আজকের সংঘর্ষে মনজুরুল আলম গ্রুপের রাজিব শেখ নিহত হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এবং এ ঘটনায় রাজীব নামে একজন নিহত হয়েছেন। ফের সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
মামুন আহমেদ