শিরোনাম
পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও উৎপাদন-রপ্তানি সচল রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অ্যাম্বুলেন্স থামতেই কান্নার রোল, নওগাঁর ৫ প্রবাসীকে শেষ বিদায় সঙ্গী খুঁজতে সিঙ্গেলদের সরকারি খরচে ফিনল্যান্ড ভ্রমণের সুযোগ ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস, শেফালী বেগমের অদম্য পথচলা সৌদি রুটে ১৬৫ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী ৪ নভেম্বর থেকে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ কমবে দেশের বিশাল যুবশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির হাম উপসর্গে আরও ২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪২১ বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ, ৫০ কারখানায় ছুটি ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯২৯
দীপ্ত নিউজ
জাতীয়

মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা
একনেক সভা
২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন এমআরটি লাইন-৫ দক্ষিণ রুটসহ তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প হিসেবে এমআরটি লাইন-৫ দক্ষিণ রুট এবং জাপানের অর্থায়নে চলমান এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ উত্তর রুটের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব রয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন এমআরটি লাইন-৫ দক্ষিণ রুট গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের প্রকল্প ঋণ ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

রুটটির ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ ভূগর্ভস্থ হবে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রুটটি রাজধানীর টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, নাসিরাবাদ হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাবে।

এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় বেড়েছে ১১৭.৬৪ শতাংশ
এমআরটি লাইন-১-এর সংশোধিত ব্যয়ও অনুমোদন করেছে একনেক। ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে।

২০১৯ সালে অনুমোদিত প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এবার সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

সংশোধিত প্রস্তাবে সরকারি অর্থায়ন বেড়ে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ঋণ বেড়ে ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা হয়েছে।

সংশোধিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় নকশা ও দরপত্র প্রস্তুতিতে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতার কারণে ব্যয় বেড়েছে।

বিস্তারিত নকশায় পরিবর্তনের মধ্যে স্টেশনের আয়তন বৃদ্ধি, স্টেশনের প্রবেশপথ, বের হওয়ার পথ ও ভেন্টিলেশন শ্যাফটের স্থান পরিবর্তন, তিনতলা রাজাবাগ স্টেশন নির্মাণ এবং নির্মাণকাজের সময় যান চলাচল ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় ২০ কিলোমিটার ডিট্যুর সড়ক নির্মাণের বিষয় রয়েছে।

 

Tap here to add Deepto News as a trusted source

Google Add as a preferred source on Google

এমআরটি লাইন–৫ উত্তর রুটের ব্যয়ও দ্বিগুণের বেশি

হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন–৫ উত্তর রুটের ব্যয়ও সংশোধন করা হয়েছে। ২০১৯ সালে অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এতে ব্যয় বেড়েছে ৪৮ হাজার ৬০৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সংশোধিত প্রস্তাবে সরকারি অর্থায়ন ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা এবং জাইকার ঋণ ১৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা হয়েছে।

এ রুটের হেমায়েতপুর–আমিনবাজার অংশ উড়ালপথে এবং আমিনবাজার–ভাটারা অংশ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে ভূগর্ভস্থভাবে নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি মূলত ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ছিল। সংশোধিত প্রস্তাবে বাস্তবায়নের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০৩২ সাল করা হয়েছে। এমআরটি লাইন–১ ও এমআরটি লাইন–৫ উত্তর রুটের মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল মোট ৯৩ হাজার ৭৯৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। সংশোধনের পর দুই প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পুনর্মূল্যায়নের পর আগে প্রস্তাব করা ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি ৯ লাখ টাকার চেয়ে সংশোধিত ব্যয় ৯ হাজার ৭৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কমেছে। নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন, ভবন, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং সরঞ্জাম ব্যয়সহ বিভিন্ন খাত পুনর্মূল্যায়নের পর সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন এমআরটি লাইন–৫ দক্ষিণ রুট এবং সংশোধিত এমআরটি লাইন–১ ও এমআরটি লাইন–৫ উত্তর রুট—এই তিন প্রকল্পে অনুমোদিত মোট ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। একনেক সভায় সড়ক ও জনপথ, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার ও সমবায়, রেলপথ, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আরও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।