নানা আলোচনা, সমালোচনা আর মন্দা বিক্রির খতিয়ান নিয়ে শেষ হলো এবারের অমর একুশে বইমেলা। রবিবার (১৫ মার্চ) মেলার শেষ দিনে দর্শনার্থীদের কিছুটা ভিড় থাকলেও সার্বিক মূল্যায়নে এবারের আয়োজন পাঠক ও প্রকাশক—উভয় পক্ষকেই হতাশ করেছে। পুরো সময়জুড়ে মেলার বিক্রির গতি ছিল ধীর এবং দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম।
মেরার শেষ দিনে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা সারতে ভিড় জমান বইপ্রেমীরা। অনেকেই প্রিয় লেখকের নতুন বই সংগ্রহ করতে স্টল থেকে স্টলে ঘুরে বেড়ান।
তবে প্রকাশকদের দাবি, শেষ দিনের এই সাময়িক ব্যস্ততা পুরো মাসের লোকসান পুষিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। মুক্তদেশ প্রকাশনের প্রকাশক জাভেদ ইমন তার দীর্ঘ ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, সাধারণত মেলায় বিকাল থেকে সন্ধ্যায় যে পরিমাণ বড় ধরনের বিক্রি হয়, এবার তা দেখা যায়নি।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মুক্তধারা প্রকাশনীর প্রকাশক ইন্দ্রজিৎ সেন চৌধুরী। তার মতে, ব্যবসায়িক দিক থেকে এবারের মেলা মোটেও ভালো যায়নি। রোজার কারণে মেলার চিরাচরিত উন্মাদনায় ভাটা পড়েছিল এবং শুরু থেকেই নানা নাটকীয় ঘটনার কারণে পাঠক সমাগম ছিল কম। ঢাকার বাইরে থেকেও এবার আশানুরূপ পাঠকের দেখা মেলেনি।
পাঠকদের মধ্যেও এবারের মেলা নিয়ে আক্ষেপের সুর স্পষ্ট। মেলা শুরুর আগে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্ক এবং ভালো বইয়ের প্রচারণার অভাব অনেককে মেলামুখী হতে নিরুৎসাহিত করেছে বলে মনে করেন পাঠক এম এল শিকদার। অন্য একজন পাঠক সাইফুল ইসলাম একে ‘নিষ্প্রাণ মেলা‘ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সারা বছরের অপেক্ষা থাকলেও এবার সেই চেনা আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সব হতাশার মাঝেও শেষ বিকেলের কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য আর লেখকদের আড্ডার মধ্য দিয়েই মূলত বিদায় নেয় এবারের অমর একুশে বইমেলা। অধিকাংশ প্রকাশক ও পাঠকের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এবারের আয়োজন গত বছরগুলোর মতো প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারেনি।